সিংহের হলো কাশি
-শুভ জিত দত্ত
হঠাৎ করে সেদিন নাকি
সাঁতরে ছিলেন বেশি,
তখন থেকে তিনি শুধু
দোষটা দিলেন বেশি।
শিয়াল নাকি তাকে নিয়ে
নদীতে গিয়ে ছিলেন ,
তখন থেকে রাজা মশাই
তাকে করলো ভিলেন।
কাশতে কাশতে গলা দিয়ে
রক্ত পড়ে শুধু ,
বদ্ধি মশাই বুদ্ধি দিলো
খেতে হবে মধু।
পেটে পড়ে নতুন ওষুধ
কাশি একটু থামলো,
রাজা মশাই রাগের পারদ
একটু কিছু কমলো।
শিয়াল এখন মহা খুশি
আনন্দে নেচে ওঠে,
নাচতে নাচতে তিনি আবর
একটু বেঁচে ওঠে।
তোমার আগমনী বার্তা
-শুভ জিত দত্ত
তুমি যখন এসো ধরায়
শুভ আশিষ নিয়ে,
ভালো রেখো সবার ওমা
ভুবন মাঝে গিয়ে।
নানা সাজে সেজে হঠে
এলো আগমনী,
চারিদিকে বেজে ওঠে
শুনি ওগো ধ্বনি।
শরৎ আসে নীল মেঘে
বারে আনা গোনা,
মনের মাঝে নতুন কিছু
স্বপ্ন গুলো বোনা।
আসবে তুমি সাথে নিয়ে
ভালো লাগার সুবাস,
গড়ে দিও নতুন করে
চিরো শান্তির আবাস।
তোমার আশার প্রহর গুনে
সময় কেটে গেলে,
কাশের মাঠে পরশ নিয়ে
চলছে হেসে খেলে।।
গাছের আছে জীবন
-শুভ জিত দত্ত
ওদের আছে তোমার মতো
আস্তো একটা জীবন,
তাদের লতায় পাতায় তৈরি
ঔষধ করো সেবন।
ছায়া দিয়ে আগলে রাখে
আছে অনেক পাতা ,
সবার থেকে ওরা আবার
অনেক বড়ো দাতা।
জীবন বাঁচে তাদের ফলে
আছে পুষ্টি গুণ,
খেতে লাগে অনেক ভালো
সাথে মিষ্টি গুণ।
তবু তোমার তাদের কাটো
যখন ইচ্ছে হলো,
অনেক হলো এবার তবে
ওদের কথা বলো।
ওদের অনেক আঘাত লাগে
যখন তোমার কাটো,
অনেক গরম যখন লাগে
ওদের ছায়ায় হাটো।।
ভালুক ঘটক
শুভ জিত দত্ত
বনে নাকি হঠাৎ করে
হৈচৈ পড়ে গেছে,
ভালুক করছে ঘটক গিরি
সবাই লাগলো পেছে।
বিয়ে এবার দিতে হবে
পড়লো বিশাল লাইন,
সবার থেকে একটা করে
নিচ্ছেন তিনি সাইন।
এদিক ওদিক সেদিক থেকে
সবাই ছুটে আসে,
তিনি এখন বিপদে পড়ে
জায়গা দিলেন ঘাসে।
তিনি এখন মহা বিপদে
গেলেন রাজার কাছে,
শুনে নিয়ে রাজা মশাই
বললো ওঠো গাছে।
বিয়ে তোমার দিতে হবে
হয়েছো যখন ঘটক ,
আমার সেনা তৈরি আছে
করবে তোমার আটক।
শিয়াল কাজী
-শুভ জিত দত্ত
বাঘের সাথে হঠাৎ করে
সিংহীর হলো দেখা,
তিনি নাকি সেদিন থেকে
করলেন শুরু লেখা।
শেষে তিনি খামে ভরে
পৌঁছে দিতে গেলেন,
সামনে আছে সিংহীর বাবা
ধরা এবার খেলেন।
পড়লো যখন এবার ধরা
বিয়ে করতে হবে,
নইলে পরে দড়ি দিয়ে
ঝুলে মরতে হবে।
রাজি হয়ে এবার শেষে
ডাকতে হবে কাজি,
কাজী সাহেব আসবে যখন
সঙ্গে আনবে পাজি।
কাজী আবার একটু রসিক
তিনি শিয়াল মশাই,
গরু মহিষ কাটতে হবে
ডাকো এবার কশাই।।
"ধরিবাজ কালু"
-শুভ জিত দত্ত
ঘরের কাছে বাড়ির পাশে
থাকেন কালু দাদা,
তিনি নাকি বৃষ্টি হলে
মাখেন শুধু কাদা।
হঠাৎ করেই তিনি নাকি
হলেন পাড়ার মাথা,
সবাই এখন তাকে নিয়ে
শোনাই নানা গাঁথা।
তিনি এখন সবার মাঝে
হলেন নাটের গুরু,
আড়াল থেকে লোকে বলে
কালুর চামড়া পুরূ।
বিচার করে টাকা খেয়ে
পড়ার লোকে দোষে,
অর্থ দিয়ে তিনি আবার
লেঠেল গুলো পোষে।।
নেশার ঘরে হঠাৎ করে
যাকে তাকে মারে,
লোকে বলে কালু দাদার
ভূতু আছে ঘারে।।
শুভ জিত দত্ত
বাবা বলতেন মায়ের বাড়ি
এখন তারার দেশে,
সেখানে তিনি তাদের সাথে
থাকেন ভেসে ভেসে।
আমি যখন খুবই ছোট
বয়স দশ কি বারো,
হঠাৎ সামান্য জ্বরে তিনি
কাবু হলেন আরো।
বুদ্ধি আমার হয়নি তখন
কিছু বোঝার আগে,
কেমন করে ফাঁকি দিয়ে
চললেন আগে ভাগে।
বাবা যখন চোখের জলে
তোমার কথা বলতো,
একটু পরে কাঁদতে কাঁদতে
কষ্ট তখন কমতো।
ছবি হয়ে ছিলে তুমি
আমার মনের কোণে,
কেনো জানি তোমার কথা
ভাবি ক্ষণে ক্ষণে।
"ছোট্ট শোনা"
শুভ জিত দত্ত
ছোট্ট শোনা ছোট্ট শোনা
দেখতে তুমি ভালো,
তোমার কথায় সারা বাড়ি
জললো জ্ঞানের আলো।
ছোট্ট কথা ছোট্ট কথা
বলতে তুমি পারো,
হঠাৎ তুমি করলে ধাঁধা
বয়স যখন বারো।
ছোট্ট মুখে ছোট্ট মুখে
হাজার কথা বলো,
দিতে হবে কিনে তাতো
তুমি যথা বলো।
ছোট্ট হাসি ছোট্ট হাসি
যখন তুমি দিতে,
খেললে পরে কোনো খেলা
তুমি যাও জিতে।
ছোট্ট খুশি ছোট্ট খুশি
সবার মাঝে দাও,
কিনতে হবে তোমার খুশি
হয়কি আবার তাও।।
"রৌদ্রের ঝলকানি"
-শুভ জিত দত্ত
বাইরে প্রচুর গরম পরে
বৃষ্টির দেখা নাইরে,
জমে আছে অনেক কাজ
কেমন করে যাইরে।
সূর্য মামা মাথার উপর
হাহা করে হাসে,
গরম পড়লে একটু খেলে
মরতে হবে গ্যাসে।
গাছের পাতার নড়া চড়া
গরম এলে থামে,
রাস্তা দিয়ে চললে পড়ে
জীবন যায় ঘামে।
ওদিক থেকে বড়ো বাবু
রা রা করে আসে,
কলিগ গুলো তাইনা দেখে
ফেল ফেলিয়ে হাসে।
মেঘের সাথে বন্ধু করে
সূর্য মজা নেবে,
বৃষ্টির কবে আসবে নাকি
কেউ বলবে ভেবে।।