Saturday, August 23, 2025

Google I/O 2025: প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত


 

Google I/O 2025: প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত

প্রতিবারের মতো এ বছরও Google I/O সম্মেলনে বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তিপ্রেমীদের জন্য হাজির হয়েছে যুগান্তকারী সব ঘোষণা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে গুগল তাদের সেবাকে আরও উন্নত ও ব্যবহারবান্ধব করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক এই সম্মেলনের সবচেয়ে আলোচিত ফিচারগুলো—

 Google Meet: ভাষা পেরিয়ে কথা বলার নতুন অভিজ্ঞতা

এখন থেকে অনলাইনে মিটিং করার সময় ভাষার বাধা আর থাকছে না। Google Meet–এ যুক্ত হয়েছে রিয়েল-টাইম ট্রান্সলেশন ফিচার, যেখানে একজন বাংলা ভাষায় কথা বললে অপর প্রান্তের মানুষ ইংরেজি বা স্প্যানিশ ভাষায় শুনতে পাবেন। শুধু অনুবাদ নয়, বরং বক্তার স্বর ও টোনও সংরক্ষিত থাকবে। ফলে যোগাযোগ হবে আরও স্বাভাবিক ও প্রাণবন্ত।

Veo 3: সিনেমার মতো ভিডিও বানাবে AI

গুগল উন্মোচন করেছে Veo 3, তাদের সর্বশেষ ভিডিও জেনারেশন মডেল। এটি শুধু টেক্সট থেকে ভিডিও তৈরি করে না, বরং স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাউন্ড, ইফেক্ট, এমনকি ডায়লগও জেনারেট করতে পারে। ব্যবহারকারীরা একটি ছবি দিয়েই ছোট ভিডিও বানাতে পারবেন। এক কথায়, সিনেমা নির্মাণের জটিল কাজ এখন অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে।

Google AI Ultra: প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন প্ল্যান

উন্নত সুবিধা পেতে চাইলে ব্যবহারকারীদের জন্য রয়েছে Google AI Ultra সাবস্ক্রিপশন। মাসিক নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে এটি ব্যবহার করে পাওয়া যাবে Veo 3, Flow, Deep Think মডেলসহ নানা প্রিমিয়াম ফিচার। সিনেমার VFX, ভিডিও, সাউন্ড—সবকিছু তৈরি করার ক্ষমতা এই প্ল্যানে উন্মুক্ত।

Gemini স্মার্ট চশমা: বাস্তবেই ভবিষ্যতের পথে

সবচেয়ে চমকপ্রদ ঘোষণার একটি হলো Gemini Smart Glasses (Android XR)। এই স্মার্ট চশমার মাধ্যমে—

  • নোটিফিকেশন পড়া ও শোনানো

  • রিয়েল-টাইম অনুবাদ

  • নেভিগেশন গাইড

  • আশপাশের তথ্য জানার সুবিধা

সবই পাওয়া যাবে। সহজভাবে বললে, এটি যেন চোখের সামনে আরেকটি Google Assistant!

 Deep Think: জটিল প্রশ্নের সমাধান

গুগল তাদের নতুন AI মডেল Deep Think ঘোষণা করেছে, যা Ultra সাবস্ক্রিপশনের অংশ।

  • এটি ধাপে ধাপে চিন্তা করে জটিল সমস্যার সমাধান দিতে সক্ষম।

  • শিক্ষা, গবেষণা বা ব্যবসায়িক বিশ্লেষণে এটি বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

Google I/O 2025 দেখিয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কীভাবে আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে বদলে দিচ্ছে। যোগাযোগ থেকে শুরু করে সিনেমা নির্মাণ কিংবা ভ্রমণের পথে সহায়ক তথ্য পাওয়া—সবকিছুই এখন আরও সহজ, দ্রুত ও আকর্ষণীয়। প্রযুক্তি যে ভবিষ্যতের দোরগোড়ায় এসে দাঁড়িয়েছে, Google-এর এই ঘোষণাগুলোই তার প্রমাণ।


Thursday, August 7, 2025

রামকৃষ্ণ ও রবীন্দ্রনাথের ঐতিহাসিক সাক্ষাৎ

 রামকৃষ্ণ ও রবীন্দ্রনাথের ঐতিহাসিক সাক্ষাৎ



১৮৮৩ সালের ২রা মে, চৈত্র কৃষ্ণাদশমী তিথিতে সংঘটিত হয় এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত—দুই মহান আত্মার, শ্রীমৎ রামকৃষ্ণদেব ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একমাত্র সাক্ষাৎ। স্থান ছিল উত্তর কলকাতার প্রফুল্ল স্ট্রিটের ২৩৪ নম্বর বাড়ি, যেটি ‘নন্দনবাগান’ নামে পরিচিত ছিল। এখানে ব্রাহ্মসমাজের বিংশ সাংবাৎসরিক উৎসব উদযাপন চলছিল। এই উপলক্ষে ঠাকুর উপস্থিত হয়েছিলেন তাঁর ভক্তদের—বিশেষত রাখাল মহারাজ (পরবর্তীতে স্বামী ব্রহ্মানন্দ)—সহ।


দুপুর গড়িয়ে বিকেল। বিকেল পাঁচটা নাগাদ কাশীশ্বর মিত্রের বাড়ির সবচেয়ে বড় কক্ষে আয়োজিত হয় এক বিশেষ সভা। সভা শুরু হয় এক অনন্য শিল্পানুষ্ঠানে—ঠাকুর রামকৃষ্ণের অনুরোধে যুবক রবীন্দ্রনাথ পিয়ানো বাজিয়ে পরিবেশন করেন নিজের লেখা ব্রহ্মসংগীত “আমার মাথা নত করে দাও হে তোমার চরণধূলার তরে।” এই গানটি যেন শুধু রামকৃষ্ণদেবের জন্যই লেখা হয়েছিল—তেমনই এক আত্মিক অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ে সবার মাঝে।


গানটির ভেতরে ছিল গভীর আত্মসমর্পণের আহ্বান, যা শুনে শ্রীমৎ ঠাকুর ভাবাবিষ্ট হয়ে পড়েন—চোখে জল, হৃদয়ে ভক্তির উথান। আর সেই দৃশ্য দেখে ২২ বছরের তরুণ রবীন্দ্রনাথও বিমুগ্ধ হয়ে যান। দুই মহান ব্যক্তিত্বের মধ্যে কোনো কথোপকথনের দীর্ঘ বিবরণ নেই, কিন্তু তাঁদের ভেতরকার অনুভব ও মানসিক যোগাযোগ ছিল অনির্বচনীয়।


সভা শেষে ঠাকুর সকলের সঙ্গে বসে লুচি, ডাল, তরকারি ও মিষ্টি খান এবং আনন্দঘন পরিবেশে বিদায় জানিয়ে দক্ষিণেশ্বরে ফিরে যান।


এই একটি মাত্র সাক্ষাৎ যদিও সংক্ষিপ্ত ছিল, তবে তা দুই মহামানবের অন্তর্জগতের মিলনের এক অনন্য স্মারক হয়ে আছে ইতিহাসে। রামকৃষ্ণদেবের সঙ্গে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরেরও সুসম্পর্ক ছিল। ব্রাহ্মসমাজ ও রামকৃষ্ণ পরম্পরার মধ্যে যে আধ্যাত্মিক সেতুবন্ধ, এই সাক্ষাৎ যেন তারই এক শুভ চিহ্ন।